যুক্তিগত উন্নতি যত হচ্ছে আমরা ততই এক ধাপ করে এগিয়ে চলেছি। যেকোনো কাজের ক্ষেত্রে, তথ্য জানার ক্ষেত্রে, এমনকি রান্না পর্যন্ত নিমেষেই হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে আমাদের জীবন সহজ থেকে সহজতর হয়ে উঠেছে। সেইরকমই, মাইক্রোওয়েভ ওভেন আসার পর থেকে প্রত্যেকের জীবনকেই সহজ করে তুলেছে, কারণ, প্রচলিত রান্নার পদ্ধতির তুলনায় এটি চটজলদি খাবার রান্না করা বা খাবার গরম করতে সাহায্য করে।রান্নাঘরে আধুনিকতার ছোঁয়া হলো মাইক্রোওয়েভ। এই ওভেন না থাকলে অনেক গৃহিণীর মনই ভরে না। এই যন্ত্রে মাছ, মাংস, ডাল, যাই রান্না করা হোক না কেন, ডি-নেচারড হয়ে যায়। খাবারের কোন কোন খাদ্যগুণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আবার একনাগাড়ে মাইক্রোওয়েভে রান্না খাবার খেলে ক্যান্সারসহ নানা শারীরিক সমস্যা ডেকে আনে। এবার জেনে নিন মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যের কি কি ক্ষতি হতে পারে- মাইক্রোওয়েভে দুধ ফোটাবেন না। কারণ এতে দুধের মধ্যে থাকা কিছু প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড একেবারে নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি দুধে থাকা উপকারি অ্যামিনো অ্যাসিড পরিবর্তিত হয়ে বিষাক্ত রাসায়ানিকে রূপ নেয়। যা ক্যান্সার ডেকে আনে।
মাইক্রোওয়েভে চিকেন বা মাটন রান্না সহজ ও সময় কম লাগার ফলে অনেকে মাইক্রোওয়েভ কুকিং পছন্দ করেন। কিন্তু মাংসে থাকা বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড ওভেনের পাল্লায় পড়ে ডি-নাইট্রোসোডিএন্থানল অ্যামিনস নামে বিষাক্ত যৌগ উত্পাদন করে, যা ক্যান্সারের শঙ্কা বাড়িয়ে তোলে।
ডিপ ফ্রিজে রাখা রান্না করা সবজি এই ম্যাজিক মেশিনে গরম করলে উপকারী প্ল্যান্ট অ্যালকালয়েড বিষাক্ত পদার্থে পরিণত হয়। এটিও আমাদের শরীরে বিভিন্ন রোগ ডেকে আনে।
বিট, গাজর, মুলার মত রুট ভেজিটেবলস মাইক্রোওয়েভে গরম করলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়, তেমনি ফ্রি র্যাডিক্যাল উত্পন্ন হয় যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
অত্যধিক পরিমাণে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারে আমাদের মস্তিষ্কের তরঙ্গকে ওলটপালট করে দেয়। এতে নার্ভ ও মস্তিষ্কের সমস্যা দেখা দেয়। আর এর প্রভাবে মানসিক স্থিতাবস্থা নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করে। স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি, স্থিরতা, ধৈর্য কমতে শুরু করে। শুরু হয় ডিপ্রেশন।
এই সমস্ত কারণে মাইক্রোওয়েভের খাবার না খাওয়াই ভালো।এর ফলে ওজন বৃদ্ধি পায় ও হজম ক্ষমতাও কমে যায়।