১৪ ঘণ্টায় ৮০০ ভূমিকম্প মানচিত্রের নকশা থেকে বিলুপ্তির পথে এই দেশ?

12th November 2023 1:02 pm Country News
১৪ ঘণ্টায় ৮০০ ভূমিকম্প মানচিত্রের নকশা থেকে বিলুপ্তির পথে এই দেশ?


ইউরোপের স্ক্যান্ডিনেভীয় অঞ্চলের দেশ আইসল্যান্ডে মাত্র ১৪ ঘণ্টায় ৮০০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এ ঘটনায় দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আইসল্যান্ডের আবহাওয়া সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, অধিকাংশ ভূমিকম্প ঘটেছে রাজধানী রিকজাভিক ও তার আশপাশের এলাকা এবং দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় উপদ্বীপ রেইকজানেসে।রিখটার স্কেলের রেকর্ড অনুযায়ী এসব ভূমিকম্পের মধ্যে সবচেয়ে বড়টির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। রেইকজানেসের উপকূলীয় শহর গ্রিন্ডাভিকে রেকর্ড করা হয়েছে এ ভূকম্পটি।উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত বরফাচ্ছাদিত দেশ আইসল্যান্ডের আয়তন ১ লাখ ৩ হাজার ১২৫ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ২৩৮ জন। এই জনসমষ্টির অধিকাংশেরই বাস করেন রাজধানী রিকজাভিকে।ভূমিকম্পের ধাক্কায় গ্রিন্ডাভিকের বেশকিছু ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে, ভেঙেচুরে গেছে শহরটির প্রধান কয়েকটি সড়কও। পুলিশ ও জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা দপ্তরের কর্মীরা শহরটিতে উদ্ধারকাজ শুরু করেছেন।নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার বার্তা দিয়ে শনিবার এক বিবৃতিতে আইসল্যান্ডের বেসামরিক সুরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনা দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 'অনির্দিষ্টকালের জন্য ভূমিকম্প অব্যাহত থাকতে পারে এবং সামনে আরও বড় মাত্রার ভূমিকম্প আসতে পারে। সেসব ভূকম্পের জেরে অগ্নুত্‍পাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।'সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হচ্ছে এবং নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করা হচ্ছে।'আইএমও'র রেকর্ড অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত আইসল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় মোট ২৪ হাজার ছোটো ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত অক্টোবর থেকে টানা ভূমিকম্পের জেরে ভূগর্ভস্থিত লাভা উপরে উঠে আসছে এবং বর্তমানে বেশ কিছু এলাকায় ভূপৃষ্টের মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে অবস্থান করছে লাভার মজুত।'ভূমিকম্প অব্যাহত থাকবে এবং তার জেরে একসময় ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে লাভার উদ্গীরণ হওয়া শুরু হবে। তখন দেখা দেবে মূল বিপদ,' বলেছেন এক কর্মকর্তা।প্রসঙ্গত, আইসল্যান্ডে মোট সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সংখ্যা ৩৩টি। 





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।