বিশ্বে প্রথম চিকুনগুনিয়া ভ্যাকসিন আসছে বাজারে মানুষের শরীরে ট্রায়াল সফল

10th November 2023 5:17 pm Country News
বিশ্বে প্রথম চিকুনগুনিয়া ভ্যাকসিন আসছে বাজারে মানুষের শরীরে ট্রায়াল সফল


মশাবাহিত রোগগুলির মধ্যে ডেঙ্গি, জাপানি এনসেফ্যালাইটিসের পরে যে রোগটি নিয়ে চিন্তা সবচেয়ে বেশি তা হল চিকুনগুনিয়া। এই রোগ গোড়ায় ধরা যায় না, ফলে চিকিত্‍সাতেও দেরি হয়। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব খুব বেশি।প্রতি বছর বর্ষা এলেই চিকুনগুনিয়ার উত্‍পাত বাড়ে। এবারে এই রোগ নিয়ে চিন্তার দিন শেষ হল বলেই মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্বে প্রথম চিকুনগুনিয়ার ভ্যাকসিন আসছে বাজারে।চিকুনগুনিয়ার প্রথম টিকাকে অনুমোদন দিল মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য মেডিক্যাল জার্নাল 'দ্য ল্যানসেট' দাবি করেছে, মানুষের শরীরে চিকুনগুনিয়ার ভ্যাকসিন খুব ভাল কাজ করেছে। ২৮ জনের উপর ক্লিনিকাল ট্রায়াল হয়েছিল। দেখা গেছে ভ্যাকসিন ৯৮.৯ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে এই সাফল্য এসেছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা।চিকুনগুনিয়ার ভ্যাকসিন তৈরি করেছে ইউরোপের ভালনেভা সংস্থা। মার্কিন এফডিএ জানিয়েছে, ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সিদের জন্যই এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১৯৫২-তে আফ্রিকার মোজাম্বিক ও তানজানিয়ার সীমান্তে মাকোন্ডে নতুন ভাইরাসের খোঁজ মিলেছিল। স্থানীয় জনজাতির ভাষায় নাম 'চিকুনগুনিয়া'। মূল শব্দ 'কুনগুনিয়ালা'। অর্থ 'যা বেঁকে যায়'। তা থেকেই ভাইরাসটির নাম হয়েছে চিকুনগুনিয়া। কারণ, এই জ্বর হলে রোগী সোজা হয়ে হাঁটতে পারে না। হাঁটতে হয় খুঁড়িয়ে, লেংচে।চিকুনগুনিয়া হলে দুই থেকে পাঁচদিন পর্যন্ত জ্বর থাকবে, সঙ্গে দুর্বলতা। ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত জ্বর উঠতে পারে। এর সঙ্গে থাকবে গাঁটে গাঁটে ব্যাথা। মাথা ব্যাথাও এই রোগের লক্ষণ। এই ব্যাথা এক সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত থাকতে পারে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই রোগ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।এই রোগের আরও একটা বিশেষত্ব আছে। জ্বরের সঙ্গে রোগীর (বিশেষত মেয়েদের) নাক আর গালের দু'পাশ লাল হয়ে যায়। হেমারেজিক ডেঙ্গির ক্ষেত্রেও কিন্তু জ্বরের সঙ্গে সঙ্গে মুখ লাল হয় না। হয় জ্বরের কিছু দিন বাদে, যখন 'হেমারেজিক ম্যানিফেস্টে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।