ইসরোর তরফে মঙ্গলবার কোন তথ্য জানানো হল

8th November 2023 12:20 pm Country News
 ইসরোর তরফে মঙ্গলবার কোন তথ্য জানানো হল


সৌরশিখার এক্স-রে ঝলক তুলতে সফল হল ভারতের সৌরযান আদিত্য এল-1 । ইসরোর তরফে মঙ্গলবার এই তথ্য জানানো হয়েছে। ভারতের এই সৌরযানে H110S নামে যে এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার রয়েছে তার মাধ্যমেই এই সৌরশিখার উচ্চক্ষমতার এক্স-রে ঝলক তুলতে পেরেছে এই মহাকাশ যানটি।

 

মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর তরফে জানানো হয়েছে, যাত্রাপথে সৌরশিখার এক্স-রে ঝলক তুলতে পেরেছে আদিত্য এল-1 এর স্পেক্ট্রোমিটার । 29 অক্টোবর এই এক্স- রে তথ্য তোলা হয়েছে। সূর্য ও পৃথিবার মাঝে ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট-1 রয়েছে সেখানে পাঠানো হচ্ছে আদিত্য এল-1কে। ওই গন্তব্যে যাওয়ার পথেই আদিত্য এল-1 এর এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটার সৌরশিখার ওই তথ্য সংগ্রহ করেছে।

ইসরো জানিয়েছে, সৌরশিখা থেকে বিভিন্ন ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক স্পেকট্রাম যেমন রেডিও তরঙ্গে, অপটিকাল তরঙ্গ, অতি বেগুনি রশ্মি, নরম এক্স-রে তরঙ্গ, কঠিন এক্স-রে তরঙ্গ ও গামা বৰ্ণালী নির্গত হয়। গত 27 অক্টোবর থেকে কাজ শুরু করেছে H8110S নামে এই এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটারটি। সূর্যের শক্তিশালী এক্স-রে তরঙ্গ পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে এই স্পেক্ট্রোমিটারটি।

H110S নামে এই এক্স-রে স্পেক্ট্রোমিটারটি আদিত্য এল-1 মিশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে বেঙ্গালুরুতে ইসরোর ইউআর রাও স্যাটেলাইট সেন্টারে। স্পেস অ্যাস্ট্রোনমি গ্রুপ এই স্পেক্ট্রোমিটারটি তৈরি করেছে । পৃথিবী থেকে ল্যাগরেঞ্জ পয়েন্ট-1 এর দূরত্ব 1.5 মিলিয়ন কিলোমিটার। সূর্যের বাইরের আবরণের স্তর পরীক্ষা করার লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই তৈরি হয়েছে ভারতের আদিত্য এল-1 মিশন । ইসরোর সফল চন্দ্রযান-3 মিশনের পর এবার দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের চোখ রয়েছে এই সৌরযান মিশনের সাফল্যের উপর। 2 সেপ্টেম্বর গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আদিত্য এল-1। 127 দিন পর এই সৌরযানের গন্তব্যে পৌঁছনোর কথা ।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।