ইরানের রাজধানী তেহরান–এর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক বিমানবন্দর মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে। শনিবার ভোরের দিকে বিমানবন্দর এলাকায় পরপর একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের শব্দে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোর পাশাপাশি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি যাত্রিবাহী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু বিমানে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকটি বিমান সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনার পর বিমানবন্দর এলাকায় দমকল ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দর চত্বর থেকে আকাশের দিকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে বিশাল আগুনের শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়া। দূর থেকেও সেই আগুনের তীব্রতা স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলের আশপাশে তীব্র উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বিমানবন্দর। এখান থেকে মূলত অভ্যন্তরীণ এবং আঞ্চলিক উড়ান পরিচালিত হয়। ফলে এই বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ সামনে আসতেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার থেকেই ইরানের বিভিন্ন স্থানে বড় মাপের হামলা শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু তেহরানই নয়, পশ্চিম ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর কেরমানশাহতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কেরমানশাহ শহরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেখানে ইরানের বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সামরিক স্থাপনা রয়েছে। অনেকের মতে, সেই ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।
ইজ়রায়েলি বায়ুসেনার দাবি, প্রায় ৫০টি যুদ্ধবিমান একযোগে অভিযানে অংশ নেয়। তারা তেহরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক অবকাঠামো এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
ইজ়রায়েলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই–এর জন্য তৈরি একটি বিশেষ সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারকেও নিশানা করা হয়েছে। বহুদিন ধরেই সেই বাঙ্কারকে অত্যন্ত সুরক্ষিত আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। ইজ়রায়েলি সূত্রের দাবি, সেই বাঙ্কারটি ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
ইজ়রায়েল আরও দাবি করেছে, তেহরানের বিভিন্ন প্রান্তে বহু গোপন এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত বাঙ্কার ছড়িয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেই বাঙ্কারগুলির অবস্থান, কাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহ করছিল ইজ়রায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই একের পর এক অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। পরিস্থিতি দ্রুত কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। একই সঙ্গে এই সংঘাতের প্রভাব গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
(**তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হয় নি)