পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বাজেটে (২০২৬-২৭) উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক বেশ কিছু খবর। বিশেষ করে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের নতুন ঘোষণাগুলি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প— ‘বাংলার যুব সাথী’ এবং জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ভাতা বৃদ্ধি।
‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্প: বেকারদের জন্য নতুন দিশা
রাজ্যের কর্মপ্রার্থী যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়াতে সরকার এই বছর ‘বাংলার যুব সাথী’ নামে একটি অভিনব প্রকল্পের সূচনা করেছে। এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণগুলি হলো:
-
আর্থিক সহায়তা: মাধ্যমিক উত্তীর্ণ বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।
-
বয়সসীমা: ২১ থেকে ৪১ বছর বয়সী কর্মপ্রার্থীরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন (যাঁরা রাজ্য থেকে অন্য কোনো স্কলারশিপ পাচ্ছেন না)।
-
সময়কাল: কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত সর্বাধিক ৫ বছর এই ভাতা পাওয়া যাবে।
-
বাজেট বরাদ্দ: এই মেগা প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার প্রাথমিক ভাবে ৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। আগামী ১৫ই আগস্ট থেকে এই ভাতা দেওয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আরও বেশি হাসি
রাজ্যের মহিলাদের স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছে। ২০২৬ সালের বাজেটে এই প্রকল্পের ভাতাও এক ধাক্কায় ৫০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই রাজ্যের মহিলারা এই বর্ধিত ভাতার সুবিধা পেতে চলেছেন। এর ফলে গ্রামীণ ও শহরের মহিলাদের হাতখরচ এবং পারিবারিক আর্থিক সুরক্ষায় আরও বেশি ভারসাম্য আসবে।
সামগ্রিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রভাব
শুধু ভাতা প্রদানই নয়, রাজ্যের স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিকাঠামো খাতেও বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিএসডিপি (GSDP) উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ২১.৪৮ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সরকারি এই সরাসরি আর্থিক সহায়তার ফলে বাজারে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।