যুদ্ধের ছায়া থাকলেও দরজা খোলা আলোচনার —ইরানকে ইঙ্গিত ট্রাম্পের

30th January 2026 10:12 am Global News
যুদ্ধের ছায়া থাকলেও দরজা খোলা আলোচনার —ইরানকে ইঙ্গিত ট্রাম্পের


ইরানের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে সামরিক পথে হাঁটতে আগ্রহী নয় ওয়াশিংটন। বরং পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটাতে তেহরানের সঙ্গে ফের আলোচনার টেবিলে বসতে চায় আমেরিকা—এমনই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে তিনি জানিয়ে দেন, সংঘাত এড়ানোর সুযোগ এখনও রয়েছে, যদিও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে সঙ্গে রেখেছেন শক্তির বার্তাও।

এ দিন স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রের প্রিমিয়ারে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে তৎক্ষণাৎ কোনও সামরিক অভিযান চালানোর প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। তবে একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেন, মার্কিন সেনাশক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত। তাঁর কথায়, “আমার প্রথম মেয়াদেই আমি সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিলাম। এখন আমাদের একটি বড় ও শক্তিশালী নৌবহর ইরানের দিকে এগোচ্ছে। আশা করি, সেই শক্তি ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না।”

পরমাণু চুক্তি প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, এই বিষয়ে আমেরিকার মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “হ্যাঁ, আমাদের বিশাল ও অত্যন্ত ক্ষমতাবান রণতরী ওই অঞ্চলে যাচ্ছে। কিন্তু সত্যি বলতে কী, যদি আমাদের সেগুলো ব্যবহার না করতে হয়, সেটাই সবার জন্য ভালো হবে।” এই মন্তব্যে একদিকে যেমন আলোচনার ইচ্ছা স্পষ্ট, তেমনই প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন তিনি।

উল্লেখযোগ্য ভাবে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আগেও বারবার কড়া সুরে কথা বলেছেন ট্রাম্প। পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি নিয়ে চাপ বাড়িয়েছে আমেরিকা। ইতিমধ্যেই মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রে পৌঁছে গিয়েছে, যা গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। পাশাপাশি, ইরানে খামেনেই-বিরোধী যে বিক্ষোভ চলছে, তাকেও প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প।

অন্য দিকে, ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরানও। ইরান আগেই স্পষ্ট করেছে, আমেরিকা যদি কোনও রকম হামলার পথে যায়, তা হলে তার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি বলেন, তাঁদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তাঁর কথায়, বাহিনীর ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’—অর্থাৎ হামলা হলে সঙ্গে সঙ্গেই পাল্টা আঘাত হানবে ইরান। যদিও সরাসরি আমেরিকা বা ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করেননি তিনি।

তবে উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার সম্ভাবনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছে না তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনা করতে রাজি তাঁদের দেশ। তবে সেই চুক্তি হতে হবে ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ, কোনও পক্ষের প্রতি পক্ষপাতিত্ব চলবে না। সব মিলিয়ে, সংঘাত ও সংলাপ—এই দুইয়ের মাঝের সূক্ষ্ম দড়ির ওপর দাঁড়িয়ে এখন আমেরিকা-ইরান সম্পর্ক, যেখানে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো পরিস্থিতিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।





Others News

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |


বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় খবর হলো ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া প্রত্যক্ষ সংঘাত। গত কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর আজ পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে এখন শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা।

১. ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু

আজকের সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর খবর হলো ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিমানি-র মৃত্যু। ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ইরান নিশ্চিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে "শহীদত্ব বরণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

২. উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আজ ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের আকাশে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৩. ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত

ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেল আবিবের নিকটবর্তী রামাত গান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরান দাবি করেছে, তারা অত্যাধুনিক 'ক্লাস্টার ওয়ারহেড' ব্যবহার করে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

৪. বৈশ্বিক প্রভাব ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

এই যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

  • জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

  • দক্ষিণ এশিয়া: শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতোমধ্যেই ৪ দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতেও রান্নার গ্যাস (LPG) সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

৫. বিশ্বশক্তির অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র একাই সক্ষম এবং এ কাজে ন্যাটোর সহায়তার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্বের নজর সরে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।


দ্রষ্টব্য: পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।