ওজন ঝরবে বলে কেবল ডিমের সাদা অংশ খাচ্ছেন? কুসুম খেলে কি সত্যিই মেদ জমে শরীরে?

19th March 2024 7:27 pm Country News
ওজন ঝরবে বলে কেবল ডিমের সাদা অংশ খাচ্ছেন? কুসুম খেলে কি সত্যিই মেদ জমে শরীরে?


আধুনিক জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে অনিয়মের জেরে শরীরে বাসা বাঁধে নানা রোগ। আর তার হাত ধরেই ব্রাত্য হয় নানা খাওয়াদাওয়া। ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, থাইরয়েড, ওবেসিটি, পলিসিস্টিক ওভারি— জীবনশৈলীর দোষে তৈরি হওয়া এ সব রোগের হানায় খাদ্যতালিকা থেকে বাদ হয়ে যায় অনেক প্রিয় খাবারদাবার। ডিম খেতে পছন্দ করেন না এমন লোক খুঁজে পাওয়া মুশকিল! তবে কোলেস্টেরলের ভয়ে অনেকেই বাদ দেন ডিমের কুসুম। কেউ আবার ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে ডিমের সাদা অংশটি খেলেও হলুদ অংশ ছুঁয়েও দেখেন না।

ডিমের মোট দু’টি অংশ। সাদা অংশে থাকে প্রোটিন আর কুসুমে থাকে কোলেস্টেরল, ভিটামিন বি এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এই সব উপাদান আমাদের নানা জৈবিক কাজে ব্যবহৃত হয়। কোলেস্টেরলেরও কিছু প্রয়োজনীয় কাজ থাকে। যেমন, পিত্তে উপস্থিত অ্যাসিড তৈরিতে একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে এটি। এ ছাড়া ভিটামিন ডি-র জোগান দিতে, হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতেও কাজে আসে কোলেস্টেরল। শরীরে নানা যৌন হরমোন ক্ষরণেও কোলেস্টেরল সাহায্য করে। কোলেস্টেরল মানেই শরীরের পক্ষে খারাপ, এই ধারণা বদলাতে হবে। শরীরে ভাল কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি করতে হলে ডায়েটে গোটা ডিম রাখতেই হবে। ওজন ঝরানোর ডায়েটেও ১টি গোটা ডিম খাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা লো-কার্ব ডায়েট করছেন, তাঁদের তো ডায়েটে গোটা ডিম রাখা ভীষণ জরুরি।

 

দিনে ক’ টা ডিম খাওয়া নিরাপদ?

দিনে দু’টি কুসুম সমেত ডিম খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু সংখ্যাটা তার বেশি হলে খান সাদা অংশই। কারণ, কোলেস্টেরলের আধিক্যও শরীরের জন্য ভাল নয়। তা বলে আবার তেলে ভেজে বা মাখনে বেক করে ডিম খাবেন না। চেষ্টা করুন সেদ্ধ ডিমই খেতে। তেল-মশলা থেকে বরং দূরে থাকুন। বাদ দিন ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড। এতেই কমবে কোলেস্টেরলের ভয়। তবে কোলেস্টেরলের মাত্রা যদি খুব বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়াই শ্রেয়।

ডিমের কুসুমের পুষ্টিগুণ

 

ডিমের কুসুম প্রথম শ্রেণির প্রোটিন। যদি কুসুম ছাড়া শুধু সাদা অংশ খান, তা হলে বিভিন্ন প্রকার অ্যামাইনো অ্যাসিড থেকে বঞ্চিত হবেন। একটা গোটা ডিমে ৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমের কুসুম বাদ দিলে প্রোটিনের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩ গ্রাম। প্রোটিন ছাড়াও কোলিন, সেলেনিয়াম, জ়িঙ্ক, ভিটামিন এ, বি, ই, ডি ও কে থাকায় ডিমের পুষ্টিগুণের প্রায় পুরোটাই থাকে কুসুমে। ডায়েটারি কোলিন ও ভিটামিন ডি-র সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উৎস ডিমের কুসুম।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।