ধূমপান করলে শরীরের যে ক্ষতি হয়, ঘরে ধূপ-ধুনো জ্বালালেও কি একই রকম সমস্যা হতে পারে?

10th March 2024 8:49 am Country News
ধূমপান করলে শরীরের যে ক্ষতি হয়, ঘরে ধূপ-ধুনো জ্বালালেও কি একই রকম সমস্যা হতে পারে?


বাড়ির সকলের চোখ এড়িয়ে সদ্য ধোঁয়ায় টান দিতে শিখেছে বছর ২৩-এর শ্রীমা। মা-বাবার চোখে না পড়লেও ঠাম্মির নাক এড়াতে পারেনি সে। ঠাম্মির পাশে শুতে যাওয়ার আগে মাউথওয়াশ দিয়ে রোজই মুখ ধুয়ে নেয়। তবে, ভুল তো মানুষের হয়ই। তেমনই এক রাতে খুসখুসে কাশির জ্বালায় ঠাম্মির কাছে ধরা পড়ে যায় শ্রীমা। মা-বাবাকে তার সিগারেট খাওয়ার কথা না জানালেও ধূমপান করার ভাল-মন্দ নিয়ে শ্রীমাকে রোজই নানা কথা শোনাতে থাকেন তার ঠাম্মি। সিগারেট খেলে ক্ষতি হয়, সে কথা শ্রীমা জানে। তবে, ঠাকুর ঘরে ধূপ-ধুনো জ্বালিয়ে ঘণ্টাখানেক বসে থেকে তাঁর ঠাম্মিরও যে একই রকম ক্ষতি হচ্ছে, সে কথা বলাতেই তিনি রেগে আগুন।

শুধু গন্ধ নয়, ধূপ বা সুগন্ধি মোমবাতি জ্বালালে ঘর ভরে যায় ধোঁয়ায়। মন ভাল রাখতেও ঘরে নানা রকম সুগন্ধি জ্বালান অনেকে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ ভাবে ধূমপান করেন না, তাঁদের শরীরেও ধূমপায়ীদের মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, ধূপ-ধুনোর ধোঁয়া সিগারেটের মতোই ক্ষতিকর। বদ্ধ ঘরে হাওয়া চলাচলের অভাবে সেই ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারে না। যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে শরীরে। তাই পরিবেশের দূষিত বায়ুর পাশাপাশি বাড়ির ভিতরের বায়ু আদৌ নির্মল কি না, সেই বিষয়েও সচেতন থাকা জরুরি। ধূপের মধ্যে রয়েছে কার্বন ডাইঅক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড, বেঞ্জন, টলুয়েন এবং অলডিহাইড্‌স-এর মতো রাসায়নিক। অনেকেই হয়তো জানেন না, ধূপ-ধুনো পোড়ালে ধোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই রাসায়নিকগুলি শুধু নাক নয়, কানের মাধ্যমেও আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। ফলে শ্বাসযন্ত্র তো বটেই, কানের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাও নষ্ট হয়। চোখে, নাকে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, কাশি, অ্যাজ়মার মতো সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে, ঘরের জানলা-দরজা খোলা রেখে সারা দিনে এক-দুটো ধূপ জ্বালানোই যায়। সুগন্ধি মোমবাতির ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।