ধূমপান বন্ধে সাইটিসিন পিল কার্যকর প্রমাণিত যুক্তরাজ্যে অনুমোদন

3rd January 2024 10:48 am Country News
ধূমপান বন্ধে সাইটিসিন পিল কার্যকর প্রমাণিত যুক্তরাজ্যে অনুমোদন


যারা ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন-একটি পিল সেবন করলে তাঁদের সাফল্যের সম্ভাবনা দ্বিগুণ বেড়ে যায় বলে দাবি করেছেন চিকিত্‍সকেরা। সাইটিসিন নামের এই পিল নিকোটিনের আসক্তি দূর করে। ল্যাবারনাম বীজ থেকে পাওয়া এই ওষুধটি ধূমপানের আসক্তি কাটিয়ে উঠতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।সোমবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশক ধরেই মধ্য ও পূর্ব ইউরোপে সাইটিসিন পিলটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এবার এই পিলটি যুক্তরাজ্যও অনুমোদন দিয়েছে। 

এক পর্যালোচনায় আর্জেন্টাইন গবেষকেরা সাইটিসিন পিলকে ধূমপান ছাড়ার জন্য অন্যান্য থেরাপি যেমন-ছলৌষধ (প্লাসিবোস), ভেরেনিক্লাইন এবং নিকোটিন প্রতিস্থাপনের সঙ্গে তুলনা করেছেন। 

১২টি নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালের বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেছেন, সাইটিসিন পিলগুলো ধূমপান বন্ধে ছলৌষধের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি কার্যকর। পাশাপাশি কিছু ট্রায়ালে নিকোটিন প্রতিস্থাপন থেরাপির তুলনায় বেশি সুবিধা পাওয়া সহ ধূমপান বন্ধের বিজ্ঞানসম্মত উপায় ভ্যারেনিক্লাইনের সমান কার্যকারিতার প্রমাণ দিয়েছে সাইটিসিন। 

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া ওমর ডি সান্তি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ধূমপান বন্ধ করার জন্য বিশ্বজুড়ে একটি সস্তা ও কার্যকর উপাদান সাইটিসিন।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় ধূমপানকে। সাইটিসিন সেই সমস্যা থেকে উত্তরণের একটি উপায় হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে ধূমপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেলেও এটি এখনো প্রতিরোধযোগ্য অসুস্থতা এবং মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসাবে রয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, চিকিত্‍সকের ব্যবস্থাপত্রে নতুন ওষুধ সাইটিসিন যোগ হলে দেশটিতে ধূমপানের হার আরো হ্রাস পাবে। 

চলতি মাসের শেষদিকে যুক্তরাজ্যের বাজারে পাওয়া যাবে সাইটিসিন পিল। তবে এর খরচের বিষয়টি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে অনেকের জন্য। ২৫ দিনের একটি কোর্সের জন্য অন্তত ১১৫ পাউন্ড খরচ করতে হবে ধূমপায়ীদের।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।